সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি হাসপাতালে তিন মাস ধরে যে বাংলাদেশির লাশ পড়ে ছিল, অবশেষে তার পরিচয় জানা গেছে।মোহাম্মদ সৈয়দ (৫৪) নামের ওই ব্যক্তি চট্টগ্রামের পটিয়া মধ্যম শিকলবাহার আবদুল জলিলের ছেলে। দেশে তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন।
আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের আইন কর্মকর্তা রেজাউল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মৃত ওই ব্যক্তির নিজের এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানের দেওয়া নাগরিকত্বের কাগজপত্র পেলেই আমরা লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারব।”
ওমানের সিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আল হিল এলাকায় থাকতেন সৈয়দ। করতেন রঙমিস্ত্রির কাজ।
সেখানে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বৈধ কাগজপত্র না থাকায় দালাল ধরে আমিরাতে আসেন এবং পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ হেফাজতেই ৩ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে তার মৃত্যু হয়।
সঙ্গে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এবং বাংলাদেশে তার পুরো ঠিকানা জানতে না পারায় গত প্রায় তিন মাস ধরে তার লাশ পড়ে থাকে ওমান সীমান্তবর্তী আমিরাতের আল আইন শহরের একটি হাসপাতালের হিমঘরে।
মঙ্গলবার “আমিরাতের হাসপাতালে তিন মাস পড়ে আছে ‘বাংলাদেশির’ লাশ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে মোহাম্মদ সোলায়মান নামে ওমান প্রবাসী এক বাংলাদেশি সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
তিনিই জানান, ওই ব্যক্তি চট্টগ্রামের সৈয়দ। পরে আল আইন শহরের পুলিশ ও আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসেও লাশের পরিচয় ও বিস্তারিত ঠিকানা জানানো হয়। দূতাবাস থেকে চট্টগ্রামে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
সৈয়দের ছেলে মামুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাবা ওমানে গিয়েছিলেন বছর দেড়েক আগে। তার কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। আবুধাবি থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে উনার মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। বলেছে, চেয়ারম্যানের কাছ থেকে নাগরিকত্বের সনদ পাঠাতে হবে।”
দূতাবাস কর্মকর্তা রেজাউল জানান, সৈয়দ ওমান থেকে অবৈধ পথে আমিরাতের আল আইনে পৌঁছান গত ৩০ অগাস্ট। তিনি ভেবেছিলেন, আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করলে দেশে ফেরার একটা উপায় বের করা যাবে।
“আত্মসমর্পণ করার পর ২ সেপ্টেম্বর পুলিশ হেফাজতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তাকে আইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি মারা যান।”
ওমান থেকে অবৈধভাবে সৈয়দের আমিরাতে আসার ঘটনায় সেখানে একটি মামলাও হয়েছে। সেসব আইনি জটিলতা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই সৈয়দের মরদেহ দেশে পাঠানো যাবে বলে জানান রেজাউল।





