অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে যখন জ্যামে বসে থাকতে হয়, তখন হেডফোন কানে লাগিয়ে গান শোনাই হয়ে ওঠে বিরক্তি কাটানোর একমাত্র উপায় তাই না? গান শোনা, ভিডিও দেখা কিংবা চ্যাটিং এর জন্য আজকাল আমরা হেডফোনের ওপরই ভরসা করি। কিন্তু অতিরিক্ত হেডফোন ব্যবহার হতে পারে কানের ক্ষতির কারণ।

হয়ত আপনি একটানা শুনছেন না, কিন্তু যখনই হেডফোন কানে দিচ্ছেন ভলিউম থাকছে তুঙ্গে। এভাবে আপনার শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে খুব দ্রুত।

শব্দ যেভাবে কান থেকে মস্তিষ্কে পৌঁছায়

আমাদের কানের ভেতরের অংশে অর্থাৎ ইনার ইয়ারে থাকে ছোট ছোট লোম, বিজ্ঞানের ভাষায় যার নাম স্টেরিওসিলিয়া। আমরা যখন কোনো শব্দ শুনি তখন এই লোমগুলো কেঁপে ওঠে, এই কম্পন স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠায় এক ধরনের বৈদ্যুতিক সংকেত। প্রতিনিয়ত যখন কেউ উঁচু ভলিউমে প্রতিনিয়ত কিংবা লম্বা সময় ধরে গান শোনেন, তখন স্টেরিওসিলিয়াতে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে, যা শ্রবণশক্তি নষ্ট করে ফেলে।

যা করতে পারেন

এক ঘন্টার বেশি নয়: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ, দিনে ১ ঘণ্টা কানে হেডফোন লাগিয়ে প্রাণ ভরে গান শুনুন।

ভালো মানের হেডফোন: বাজারে বিভিন্ন মানের এবং দামের হেডফোন পাওয়া যায়। যদি আপনার সারাদিনই গান শুনতে ভাল লাগে, তাহলে একটু বেশি খরচ করে ভালো দেখে একটা হেডফোন কিনে ফেলুন। ভালো মানের হেডফোনে বেইজ কোয়ালিটি ভাল থাকে, যার অর্থ হলো আপনাকে অত জোরে গান শুনতে হবে না, কম ভলিউমেই আপনি সুরের সর্বোচ্চ স্বাদ পাবেন।

বিরতি দিন: গান তো শুনছেনই, একটি গান শেষ হলে নাহয় একটু বিরতি দিন। হেডফোনটা খুলে কিংবা মিউজিক প্লেয়ারে পজ দিয়ে একটু ঘুরে আসুন আশেপাশে। চেষ্টা করুন হইচই, কোলাহলপূর্ণ জায়গা এড়িয়ে চলতে।

 

চিৎকার-চেঁচামেচি নয়: গান শোনার সময় ভলিউম এমনভাবে রাখুন যেন আপনার কাছাকাছি থাকা কোনো ব্যক্তির কথা আপনি সহজেই শুনতে পারেন, তাকে যেন চিৎকার করতে না হয়।

ভলিউম কমিয়ে শুনুন: চারপাশের শব্দ ভাল লাগছে না? গানের জগতে ডুবে যেতে চান? তাহলে ইয়ার বাড হেডফোনের বদলে বড় ধরনের হেডফোন কিনে নিন, যেগুলোতে ফোম লাগানো থাকে এবং পুরো কান ঢাকা পড়ে। বাজারে নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোনও পাওয়া যায়, যা চারপাশের শব্দ থেকে আপনাকে মুক্তি দেবে। আমরা সাধারণত যেসব হেডফোন ব্যবহার করি (ইয়ার বাড হেডফোন), সেগুলো ব্যবহারে চারপাশের শব্দ আরো বেশি কানে ঢুকে।

খাবারের বেলায় হন সচেতন: মূলত কম ভলিউমে গান শুনলেই শ্রবণ শক্তি রক্ষা করা সম্ভব। তবে কিছু খাবার আছে যা আপনাকে এই ঝুঁকি থেকে একটু হলেও বাঁচাবে। কমলা, লেবু, ক্যাপসিকাম, কাঁচা মরিচ এবং ব্রকোলির মত সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ই এবং ম্যাগনেসিয়াম যা আমাদের শ্রবণশক্তিকে প্রখর করে।

ইয়ার প্লাগ: কনসার্ট এবং সংগীত উৎসবে ভলিউম খুব চড়া থাকে, যা কানের ক্ষতি করতে পারে। এক্ষেত্রে ভালো মানের ইয়ার প্লাগ ব্যবহার করলে আপনার কান রক্ষা পাবে, সময়টা উপভোগ করতেও কষ্ট হবে না।

শিশুদের শেখান এখনই: উচ্চ ভলিউমে গান শোনার কুফল সম্পর্কে বাচ্চাদের জানাতে হবে ছোটবেলা থেকেই, তাহলে বাচ্চারা শ্রবণশক্তি রক্ষায় সচেতন হবে। স্মার্টফোনের জন্য রয়েছে অ্যাপ সাউন্ড মিটার এবং ডেসিবল মিটার, এগুলোর মাধ্যমে বাচ্চারা খেলাচ্ছলে শিখে নেবে শব্দ সম্পর্কে।

কখন বুঝবেন শব্দের মাত্রা বেশি?

৬০ ডেসিবল: একে খুব বেশি বলে ধরা হয় না। যেমন - সাধারণ কথোপকথন।

৮৫ ডেসিবল: টানা ৮ ঘণ্টার বেশি এই মাত্রায় কিছু শুনলে কানের স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেমন - কোন বুলডোজারের শব্দ।

১০০ ডেসিবল এবং তার চেয়েও বেশি: প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট এই মাত্রায় কিছু শুনলে কানের স্থায়ী ক্ষতি নিশ্চিত। যেমন - স্মার্টফোন কিংবা স্পিকারের সর্বোচ্চ ভলিউমে গান শোনা।