একটা ভুলে বাংলাদেশের কাছে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া! ভুলটি কী?একটা ভুলে বাংলাদেশের কাছে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া! ভুলটি কী?

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ইয়ান চ্যাপেল বলেছেন, মিরপর টেস্টে বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার ধুঁকে ধুঁকে পরাজিত হওয়াটা অবাক কোনো ব্যাপার ছিল না। বরং কয়েক বছর ধরে তারা যে স্থবির অবস্থার মধ্যে ছিল, তাতে করে এই পরাজয় বিস্ময়কর নয়। তবে তার মতে, একটি ভুল তাদের এই পরাজয় অনিবার্য করে তুলেছিল। সেটা হলো সিরিজের আগে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট না খেলা।

তিনি বলেন, এশিয়ান কন্ডিশনে ভালো স্পিন বোলিংয়ের মুখে অস্ট্রেলিয়া কোনোকালের ভালো করে না। তার উপর এবারের সফরের আগে বেতনভাতা নিয়ে লম্বা সময় ধরে বোর্ডের সাথে বিরোধ চলছিল। তারপর আবার তারা একটা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচও খেলেনি।
তিনি মাঠে পানির অজুহাতে অনুশীলন ম্যাচটি বাতিল করার কথাও উল্লেখ করেন।

স্মিথ যা বলেছিলেন

মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক বাংলাদেশের কাছে ২০ রানে পরাজিত অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ বলেছেন সত্যিই বাংলাদেশ বিপজ্জনক দল। তবে এমন পরাজয়ের জন্য কোনো অজুহাত দাঁড় করাতে চাই না। বাংলাদেশ তিন বিভাগেই ভাল খেলে আমাদের হারিয়েছে। সকল কৃতিত্ব তাদেরই পাওনা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রথমবার বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে অধিনায়কত্ব সকরা স্মিথ।

বাংলাদেশ সম্পর্কে নিজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে স্মিথ বলেন, গত দুই বছর যাবত তারা খুবই ভাল খেলছে। তবে এ জন্য তাদেরকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। আমি মনে করি, বিশেষ করে নিজ মাঠে বাংলাদেশ একটি বিপজ্জনক দল। সোজা কথায় তারা আমাদের হারিয়েছে। গত বছর তারা ইংল্যান্ড দলকেও হারিয়েছে। সুতরাং এমন কন্ডিশনে তারা এমন একটা দল যাদের আত্মবিশ্বাস আছে। তাদের দলে বেশ কিছু ভাল খেলোযাড় রয়েছে। আমার মনে হয় টপ অর্ডারে তামিম ইকবাল খুবই ভাল একজন খেলোয়াড় এবং আক্রমণাত্মক একজন খেলোয়াড়। সাকিব বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে খুবই ভাল খেলেছে এবং দুই ইনিংসেই চমৎকার বোলিং করেছেন। তাদের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা সত্যিই দলের জন্য খুব খেলেছে।

ব্যাট হাতে ৮৯ রান এবং বল হাতে ১০ উইকেট শিকারের সুবাদে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া সাকিব সম্পর্কে স্মিথ আরো বলেন, ‘আমি মনে করছি প্রথম ইনিংসে সে খুবই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছে। আমরা কোনভাবেই তাকে আটকাতে পারিনি। আমাদের ফাস্ট বোলাররা খুব ভাল করতে পারেনি। একই সঙ্গে স্পিনারদের লাইন-লেন্থ ঠিক ছিলনা। তারা আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণেই সাকিব ভাল করতে পেরেছে বলে আমি মনে করি।’
ম্যাচে হারলেও বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম হয়ে বলে মনে করছেন স্মিথ।

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই ম্যাচে কঠিন প্রতিদ্বন্দিতা হয়েছে। প্রথম ইনিংসে সাকিব-তামিমের জুটির কারণেই তারা ২৬০ রান করতে সক্ষম হয়েছে বলে আমি মনে করছি। এখানেই আমরা কিছু বেশি রান দিয়ে ফেলেছি। ১৮০-২০০ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারলে ভাল হতো। তাছাড়া প্রথম ইনিংসে আমাদের ব্যাটিংটাও খুব ভাল হয়নি। বিশেষ করে উপমহাদেশে শেষে ব্যাটিং করাটা বেশ কঠিন। এ জন্য অনেক কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।’
চট্টগ্রাম টেস্টের নিয়ে স্মিথ বলেন, অবশ্যই আমাদের হাতে কয়েকটা বিকল্প আছে। দ্বিতীয় টেস্টের পিচ দেখেই নির্বাচকরা সিদ্ধান্ত নেবেন। উইকেট স্পিন সহায়ক হলে অবশ্যই সেটা বিবেচনা করে সেরা একাদশ নির্বাচন করা হবে।

প্রথম ম্যাচে হেরে অস্ট্রেলিয়া চাপে কিনা জানতে চাইলে স্মিথ বলেন দুই ম্যাচ সিরিজে আমরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছি। স্বাভাবিক ভাবেই চট্টগ্রাম টেস্টে আমরা অনেক বেশি চাপে থাকব। তবে দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সমতা রেখে সিরিজ শেষ করতে পারব বলে আশা করছি। এই দলটির জন্য এটা আরেকটা চ্যালেঞ্জ। হতাশা অবশ্যই আছে। তবে এ ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে চট্টগ্রাম টেস্টে ভাল করতে চাই।-নয়াদিগন্ত।

বাংলাদেশ সফরে ইনজুরিতে পড়া জস হ্যাজেলউডের বদলি হিসেবে অস্ট্রেলিয়া দলে ডাক পেয়েছেন স্টিভ ও’কেফি। সাইড স্ট্রেইন ইনজুরির কারণে বাংলাদেশ সফরে ডান হাতি পেসার হ্যাজেলউডের না পারার বিষয়টি গতকালই মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তার পরিবর্তে বাংলাদেশ সফরে বাঁ-হাতি অর্থোডক্স স্পিনার স্টিভ ও’কেফিকে দলে ডেকেছেন অসি টিম ম্যানেজমেন্ট।

চলমান ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিন সকালে দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং করার সময় পঞ্চম ওভারের প্রথম ডেলিভারি করার সময় বাঁ-দিকের সাইড স্ট্রেইনে পড়েন হ্যাজেলউড। এরপর চিকিৎসার জন্য মাঠের বাইরে চলে যান তিনি। পরবর্তীতে আর মাঠেই ফিরতে পারেননি এই ডান-হাতি পেসার। ইনিংসে ৪.১ ওভার বোলিং করে ৩ রানে উইকেটশূন্য। প্রথম ইনিংসেও ১৫ ওভারে ৫ মেডেনে ৩৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন হ্যাজেলউড।

ঢাকা টেস্ট শেষে দেশে ফিরে যাবেন হ্যাজেলউড। তার পরিবর্তে বাংলাদেশ সফরের বাকী সময়ের জন্য অস্ট্রেলিয়া দলে যোগ দিবেন ও’কেফি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক ট্রেভর হন্স বলেন, ‘আমাদের স্কোয়াডে জ্যাকসন বার্ড রয়েছেন। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্টে কামিন্সের সাথে পেস অ্যাটাকে থাকবেন বার্ড। চট্টগ্রাম টেস্টের কথা মাথায় রেখে আমরা স্কোয়াডে অতিরিক্ত একজন স্পিনার নিয়েছি।’

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এখন পর্যন্ত ৮ টেস্টে ৩৩ উইকেট নিয়েছেন ও’কেফি। গত ফেব্রুয়ারিতে ভারত সফরে পুনে টেস্টে ১২ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৩৩৩ রানের বড় জয়ের স্বাদ দেন ও’কেফি। পরবর্তীতে চার ম্যাচের সিরিজে ১৯ উইকেট শিকার করেছেন তিনি।

শুধুমাত্র বাংলাদেশ সফরেই নয়, ভারত সফরে ওয়ানডে সিরিজেও খেলতে পারবেন না হ্যাজেলউড। সিরিজের জন্য হ্যাজেলউডের জায়গা দলে সুযোগ পেয়েছেন পেসার কেন রিচার্ডসন। এখন পর্যন্ত অসিদের হয়ে ১২টি ওয়ানডে ও ৩টি টুয়েন্টি টুয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন এই ডান-হাতি পেসার। গেল বছরের ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন রিচার্ডসন।