ভারতে চলছে অক্ষয় কুমারের নতুন সিনেমা ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’র রমরমা ব্যবসা। ইতিমধ্যে সিনেমাটি বক্স অফিসে হিট হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। পার করেছে একশ’ কোটির মাইলফলক।
সিনেমায় একটি গ্রামের পরিবারের নতুন বউয়ের টয়লেট না থাকার সমস্যা মোকাবেলা এবং একে ঘিরে নানা সামাজিক কু-সংস্কারের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো আজও ভারতের বিভিন্ন গ্রামে নারীদের এমন সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়।
এমনই এক ঘটনায় শুক্রবার রাজস্থানের ভিলওয়ারার পারিবারিক আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। আদালত স্বামীর এই আচরণকে ‘নিষ্ঠুরতার পরিচয়’ এবং ‘নারীজাতির অপমান’ বলেও মন্তব্য করে। এই ধরনের ঘটনায় দেশে এই প্রথম বিবাহবিচ্ছেদ হল।
জানা যায়, ২০১১ সালে ভিলওয়ারার এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তার। প্রথম থেকেই শ্বশুরবাড়িতে কোনও শৌচাগার ছিল না। পরিবারের সব সদস্যই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে মাঠে যেতেন।
প্রথম দিকে পরিবারের অন্য নারীদের মতো তিনিও তাই করতেন। কিন্তু তা আর সহ্য হচ্ছিল না। এতে তিনি চূড়ান্ত অপমানিত বোধ করছিলেন। খোলা আকাশের নিজে শৌচকর্ম করতে আত্মমর্যাদায় বিঁধছিল তার। তাই বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই স্বামীকে বাড়িতে শৌচালয় বানিয়ে দিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু হাজার আকুতি-মিনতি করেও কাজ হয়নি। স্বামী তার কথা শোনেননি।
উপরন্তু এটাই গ্রামের রীতি এবং তাতে অপমানিত বোধ করার মতো কিছু নেই বলেও জানায় স্বামী। গ্রামের অন্যান্য নারীদের মতো তাকেও ফাঁকা স্থানে শৌচকর্ম করার জন্য জোর দিতে থাকেন। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত স্বামীকে শৌচাগার তৈরির জন্য অনুরোধ করে যাচ্ছিলেন তিনি।
এতে কোনো কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন ওই তরুণী। ২০১৫ সালে তিনি বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন। টানা দু’বছর ধরে সেই মামলা চলে। সেই মামলারই রায় বের হয়েছে শুক্রবার।





