তিন তালাক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে সমগ্র ভারত জুড়ে। এরই মাঝে প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। তিন তালাক এবং শরিয়ত আইনের নামে ব্যাপকভাবে চলছে নোংরামি। ধর্মের দোহাই দিয়ে মহিলাদের থেকে টাকা নিয়ে বাধ্য করা হচ্ছে যৌনতায় লিপ্ত হতে।

এমনই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। ভারতীয় সমাজে প্রচলিত রয়েছে যে শরিয়ত আইন অনুসারে কোনো মহিলাকে তার স্বামী তিন তালাক দিলে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

আগের স্বামীর সঙ্গে ফের সংসার করতে চাইলে সেই মহিলাকে অন্য কোনও পুরুষকে বিয়ে করতে হবে এবং সেই স্বামীর থেকেও তালাক প্রাপ্ত হতে হবে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে ওই মহিলাকে অবশ্যই যৌনতায় লিপ্ত হতে হবে। তবেই দ্বিতীয় তালাক বৈধ বলে ঘোষিত হবে। অন্যথায় পূণরায় প্রথম স্বামীর সঙ্গে কখনই ওই মহিলা সংসার করতে পারবে না। এই কাজটি ‘নিকাহ হালালা’ নামে পরিচিত।

এই ধর্মীয় নিয়মের সুযোগ নিয়েই মুসলিম সমাজে শুরু হয়েছে চরম নোংরামি। মুসলিম পণ্ডিতেরা তালাকপ্রাপ্ত মহিলাদের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ‘নিকাহ হালালা’ করতে তাঁদের থেকে প্রচুর টাকা নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, উক্ত মহিলাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কও স্থাপন করছেন। মহিলারা নিজের সংসার বাঁচাতে বাধ্য হচ্ছেন টাকা দিয়ে সেই সকল পণ্ডিতদের সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হতে। এই ‘নিকাহ হালালা’ বা ‘দ্বিতীয় স্বামী’ হওয়ার পারিশ্রমিকের পরমাণটাও কিছু কম নয়। কমপক্ষে ৩০ হাজার থেকে সর্বাধিক দেড় লক্ষ টাকা।
দিল্লি সহ উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন মুসলিম পণ্ডিতদের সঙ্গে কথা বলেছেন ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদক।

সেই ব্যক্তিদের কথা অনুসারে, গভীর রাতে যৌনতার পরেই তালাক দিয়ে দেওয়া হয় মহিলাদের। রাত একটা থেকে তিনটের মধ্যেই মিটে যায় যাবতীয় কাজ। অনেক জায়গায় মসজিদের ইমামরা নিজে ‘নিকাহ হালালা’ করে থাকে। কখনও আবার ‘নিকাহ হালালা’এর জন্য দালাল হিসেবেও কাজ করে ইমামরা। পারিশ্রমিকের একটা বড় অংশ আবার দিতে হয় মাদ্রাসায়। উত্তর প্রদেশের মুসলিম পণ্ডিত মহম্মদ জাহিদ একটি মাদ্রাসা চালায়।

পাশাপাশি শরিয়ত আইনের কবলে পড়া তিন তালাক প্রাপ্ত মহিলাদের সাংসারিক জীবনে ফিরিয়ে দিতে ‘নিকাহ হালালা’ করে থাকে। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুসারে ‘নিকাহ হালালা’ করাতে এই ব্যক্তির পারিশ্রমিক সব থেকে বেশি। এক থেকে দেড় লক্ষ। এই অংকটা কখনই দের লক্ষের বেশি হবে না এবং এক লক্ষের কম হবে না। সাফ জানিয়ে দিয়েছে মহম্মদ জাহিদ।

ধর্মের নামে এই ধরণের নংরামির তীব্র নিন্দা করেছেন ধর্মগুরুরা। ‘নিকাহ হালালা’এর মতো কাজকে ইসলাম কখনই সমর্থন করে না বলে জানিয়েছেন ইমাম কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার প্রধান মৌলানা মাকসুদ উল হাসান কাসমি।

তার কথায়, এটা এক ধরণের লালসা। ইসলামে এসবের কোনও জায়গা নেই। ধর্মের নামে এগুলি চরম অপরাধ হচ্ছে সমাজে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে আসার দাবিও তুলেছেন তিনি।