পানির অপর নাম জীবন। সেই পানিটুকুই যদি বিশুদ্ধ করে পান না করি তবে কেমন হয় ? কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা পানি পরিশোধন না করেই তা বিশুদ্ধ পানি হিসেবে বাজারে বিক্রি করছে। র‌্যাব জানিয়েছে জারে ভরে ওয়াসার পানি বিক্রি করা হচ্ছে। এ পানি পান করলে মানুষ জটিল নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারেন বলে বিশজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত র‌্যাব-২ এর একটি দল রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। ফিউচার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, কোল্ড এভারেস্ট, বাসার ভাই ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, আল্লার দান ড্রিংকিং ওয়াটার, নবজীবন ড্রিংকিং ওয়াটার কারখানার কোনো লাইসেন্স নেই। সরাসরি ওয়াসার লাইনের পানি পরিশোধন বা ফিল্টারিং ছাড়াই নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বোতলে ভরছে।

এসব কারখানায় কোনো বায়োকেমিস্ট বা মাননিয়ন্ত্রক নেই। অথচ কারখানার মালিকপক্ষ পানি জারে এবং বোতলে ভরে বাজারে বিক্রি করছে। এ কারণে ৫ কারখানাকে জরিমানা করা হয় বলে র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছেন।বুধবার তিনি বলেন, ‘এর আগে একইভাবে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, কদমতলিসহ আরো বেশকিছু এলাকায় এ রকম কারখানায় অভিযান চালানো হয়।

মূলত বেশি লাভের আশায় অনৈতিকভাবে ওয়াসার পানি সঠিকভাবে বিশুদ্ধ না করে তা বাজারজাত করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এ পানি পান করে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অবৈধ উপায়ে এসব পানি বোতলজাত কিংবা জারে ভরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে বিপণন করে অপরাধ করছে। এ ব্যাপারে র‌্যাবের গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সেভাবে অভিযান চলবে।’

র‌্যাবের গোয়েন্দারা বলছেন, মিরপুর, বাসাবো, মাদারটেক, মান্ডা, যাত্রাবাড়ী, কোনাবাড়ি, আরামবাগ, গোপীবাগসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যেনতেন একটি রুম ভাড়া নিয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে কারখানাগুলো। এসব কারখানায় কোনোমতে ওয়াসার পানির লাইন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। বিএসটিআইর অনুমতি না নিয়ে পানি বিশুদ্ধ না করেই বেশিরভাগ কারখানায় জারে পানি ভরা হচ্ছে।

এছাড়া কিছু কিছু কারখানায় পানি বোতলজাত করা হচ্ছে। যা পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এ রকম প্রায় দুই শতাধিক কারখানার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।এগুলোর কোনো অনুমোদ নেই বলে বিএসটিআইর কর্মকর্তা মো. রেজাউল হক নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, ‘ডায়রিয়া, আমাশয়, পোলিও, হেপাটাইটিস এ ও ই, টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েড ইত্যাদি রোগ পানিবাহিত কারণে হতে পারে।